মঙ্গলবার, ২০ অক্টোবর ২০২৬, ০৬:০০ পূর্বাহ্ন

বিজ্ঞাপন:
আমাদের ওয়েব সাইটে আপনাকে স্বাগতম...
শিরোনাম :
কুড়িগ্রামে নানা আয়োজনে দৈনিক কালবেলার ৪র্থ প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী পালিত বিসিবি’র কাভার্ড ভ্যানে চুরি লুণ্ঠিত ৩ লাখ টাকা উদ্ধার করল রাজশাহী জেলা ডিবি সুন্দরবনে মানুষ ও বাঘের সংঘাত এড়াতে ৭৪ কিলোমিটার এলাকা জুড়ে নাইলনের বেড়া নির্মাণ গোপালগঞ্জের কাশিয়ানীতে পানির মোটর চালাতে গিয়ে বিদ্যুৎস্পৃষ্টে শ্রমিকের মৃত্যু যশোরে মোটরসাইকেল-পিকআপ সংঘর্ষে প্রেমিক-প্রেমিকার মৃত্যু বেনাপোল বন্দরে শারদীয় দুর্গাপূজা উপলক্ষ্যে টানা ৮ দিন বন্ধ থাকবে আমদানি-রপ্তানি রামগড়ে হারানো মেয়েকে ৯ বছর পর ফিরে পেলেন মা রামগড় ৪৩ বিজিবির অভিযানে ভারতীয় ছয়টি গরু জব্দ দৈনিক মাতৃজগতের ২৩তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীতে সম্মাননা স্মারক পেলেন মিরপুর মডেল থানার ওসি মোঃ হাফিজুর রহমান কুড়িগ্রামে গুড নেইবারস বাংলাদেশের উদ্যোগে বিশ্ব হাতধোয়া দিবস পালিত

৪০ বছরের চলাচলের পথ রাতের আঁধারে বন্ধ, চিতলমারীতে হামলার অভিযোগ


জমি দখলকে কেন্দ্র করে উত্তেজনা; আহত ব্যক্তির হাতে পাঁচ সেলাই, নারীকে মারধর ও হুমকির অভিযোগ
প্রিন্স হালদার, চিতলমারী বাগেরহাট প্রতিনিধি:

বাগেরহাটের চিতলমারীতে প্রায় ৪০ বছর ধরে ব্যবহার করে আসা একটি পরিবারের চলাচলের পথ রাতের আঁধারে টিনের বেড়া দিয়ে বন্ধ করে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে হামলা ও মারধরের ঘটনাও ঘটেছে বলে দাবি ভুক্তভোগীদের। এতে আজগর আলী মৃধা নামে একজন আহত হয়েছেন। একই ঘটনায় সুফিয়া বেগম নামে এক নারীকে মারধর ও শ্লীলতাহানি এবং পরে প্রাণনাশের হুমকি দেওয়ার অভিযোগ করা হয়েছে।

ঘটনাটি উপজেলার বড়বাড়িয়া ইউনিয়নের পরানপুর পূর্বপাড়ায়।

ভুক্তভোগী পরিবারের অভিযোগ, ১২ সেপ্টেম্বর ভোররাতে ওবায়দুর মৃধা, বক্কর মৃধা, হাবিব মৃধা, জোবায়ের মৃধা ও এবাদুল মৃধাসহ কয়েকজন লোকজন নিয়ে তাদের বাড়ির সামনে আসেন। তাদের সঙ্গে আরও অনেক লোকজন ছিল বলে দাবি পরিবারের।

রাতের আঁধারে টিন ও বেড়া দিয়ে বাড়ির সামনে জায়গা ঘিরে ফেলার চেষ্টা করা হলে পরিবারের সদস্যরা বাধা দেন। এ সময় বাকবিতণ্ডার একপর্যায়ে হামলা হয় বলে অভিযোগ।

আজগর আলী মৃধা বলেন, তিনি বেড়া দেওয়ার প্রতিবাদ করলে জোবায়ের মৃধা তাকে ধারালো ‘বেকা দা’ দিয়ে আঘাত করেন। এতে দুই হাতে জখম হয়। পরে চিকিৎসার জন্য তাকে চিতলমারী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়। তার একটি ক্ষতস্থানে পাঁচটি সেলাই দিতে হয়েছে বলে পরিবারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে।

অন্যদিকে সুফিয়া বেগমের অভিযোগ, হামলাকারীরা তাকে স্টিলের লাঠি দিয়ে মারধর করে। তার পরনের পোশাক টানাহেঁচড়া করা হয়। এ ঘটনায় থানায় গেলে বা মামলা করলে তাকে প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হয়েছে বলেও তিনি অভিযোগ করেন।

চার দশকের বসতি নিয়ে বিরোধ
ভুক্তভোগী পরিবারের দাবি, আজগর আলী মৃধা ওই এলাকায় প্রথম বসতি স্থাপন করে দীর্ঘদিন ধরে বসবাস করছেন। তাদের ভাষ্য অনুযায়ী, প্রায় চার দশক ধরে তারা ওই জায়গা ব্যবহার করে আসছেন।

বাড়ি থেকে বের হওয়ার পথটি দীর্ঘদিন ধরে ব্যবহৃত হলেও সম্প্রতি সেটি নিয়ে বিরোধ সৃষ্টি হয়েছে। এরপর গভীর রাতে পথটি বেড়া দিয়ে বন্ধ করে দেওয়ার অভিযোগ ওঠে।

পরিবারের সদস্যরা বলছেন, জমির মালিকানা নিয়ে কারও দাবি থাকলে তারা আদালত বা ভূমি অফিসের মাধ্যমে আইনগত সমাধান চান। কিন্তু রাতের আঁধারে চলাচলের পথ বন্ধ করে দেওয়ায় তারা আতঙ্কিত।

মীমাংসার উদ্যোগে নতুন উত্তেজনা
ঘটনার পর স্থানীয়ভাবে বিষয়টি সমাধানের উদ্যোগ নেওয়া হয়। আমিনুর রহমান ও মারুফ শিকদারসহ কয়েকজন স্থানীয় ব্যক্তি ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি শান্ত করার চেষ্টা করেন।

জানা গেছে, বাড়ির বাসিন্দাদের চলাচলের সুযোগ দিতে দুটি টিন খুলে দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়। এ সময় মিজান শেখ ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে উত্তেজিত হন বলে অভিযোগ রয়েছে।

প্রত্যক্ষদর্শীদের দাবি, তিনি উপস্থিত ব্যক্তিদের গালিগালাজ করেন এবং কয়েকবার মারতে উদ্যত হন। তবে এই অভিযোগের বিষয়ে মিজান শেখের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

অভিযোগের পরও কেন বাড়ল বিরোধ?
ভুক্তভোগী পক্ষ জানায়, ১০ সেপ্টেম্বর সুফিয়া বেগম তার স্বামী নূরুল ইসলামকে সঙ্গে নিয়ে চিতলমারী থানায় লিখিত অভিযোগ করেছিলেন। এরপর ১২ সেপ্টেম্বর রাতে আবারও হামলা ও পথ বন্ধের ঘটনা ঘটে বলে অভিযোগ।

এ কারণে অভিযোগ পাওয়ার পর পুলিশের পক্ষ থেকে কী ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছিল, তা খতিয়ে দেখার দাবি জানিয়েছেন তারা।

নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি
ভুক্তভোগী পরিবার প্রশাসনের কাছে কয়েকটি বিষয় নিরপেক্ষভাবে যাচাইয়ের দাবি জানিয়েছে—জমির কাগজপত্র, দীর্ঘদিনের দখল ও ব্যবহার, চলাচলের পথের অবস্থান, বেড়া দেওয়ার বৈধতা, হামলার ঘটনা এবং থানায় আগে দেওয়া অভিযোগ।

তাদের ভাষ্য, তারা কারও জমি দখল করতে চান না। শুধু নিজেদের বসতবাড়িতে নিরাপদে বসবাস এবং বাড়ি থেকে বের হওয়ার পথ চান।

একজন ভুক্তভোগী বলেন, “প্রায় ৪০ বছর ধরে আমরা এখানে আছি। হঠাৎ রাতের আঁধারে বেড়া দিয়ে পথ বন্ধ করে দেওয়ায় আমরা বিপদে পড়েছি। আমরা কারও সঙ্গে সংঘাতে যেতে চাই না। প্রশাসনের কাছে ন্যায়সঙ্গত সমাধান চাই।”

স্থানীয়দের মতে, বিরোধটি দ্রুত নিষ্পত্তি না হলে উভয় পক্ষের মধ্যে আরও উত্তেজনা তৈরি হতে পারে। তাই সংশ্লিষ্ট প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সরেজমিন তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত ঘটনা উদঘাটন করে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া জরুরি।

আপনার সামাজিক মিডিয়া এই পোস্ট শেয়ার করুন

© All rights reserved © 2026
Design & Developed BY starwebhostit